চিন্তিত মুখে বসে আছেন বিজ্ঞানী হাইজেনবার্গ।তার হাতে সাপ্তাহিক ক্রীড়া দিগন্তের একটি সংখ্যা।তিনি কি ক্রিকেটে বাংলাদেশর সাম্প্রতিক খারাপ পারফরমেণ্সে চিন্তিত?না কি ফুটবলে বাংলাদেশ মায়ানমারের সাথে ৪-০ গোলে হেরেছে বলে ক্ষুব্ধ।সায়েম সাহেব বুঝতে পারলেন না।তবুও একটু সাহস করে গলার স্বর যথাসম্ভব কোমল করে বললেন-স্যার কেমন আছেন?
হাইজেনবার্গ প্রশ্নটি শুনলেন কি না বোঝা গেল না।কারন উত্তর দেবার কোন প্রবনতা তার মধ্যে দেখা গেল না।হয়ত অনিশ্চয়তায় ভুগছেন উত্তর দিবেন কি না।সায়েম সাহেব আর একটু জোরে বললেন-স্যার আপনি কিন্তু কথা বলছেন না।বিজ্ঞানী মানুষ সবকিছু নিয়েই হয়ত অনিশ্চয়তা নীতির মত অনিশ্চয়তায় ভুগেন-এই ভাবনা থেকেই মনে করিয়ে দেয়া।
হাইজেনবার্গ গম্ভীরভাবে বললেন-'উত্তর দেবার প্রয়োজনবোধ করছি না।জানেন ই তো আমি কম কথার মানুষ।প্রয়োজন ছাড়া কথা বলিনা।আপনার সাথে যে কথা বলি এটা আপনার ভাগ্য বলতে পারেন।'
---অধমকে আর লজ্জা দেবেন না স্যার।তবে আপনার অনিশ্চয়তা নীতি সম্পর্কে একটা প্রশ্ন ছিল।
---প্রশ্ন! এ পর্যন্ত তো অনেক প্রশ্নই হল।কেউ তো কোন ভুল ধরতে পারল না।আমাকে কি বেহালাওয়ালা বুড়ো আইনস্টাইন পেয়েছ যে ভাওঁতা দিয়ে একটা সূত্র বানিয়ে দেব?
---অপরাধ নেবেন না স্যার।বেহালাওয়ালা তো আপনার কাছে নস্যি।তবে আমার প্রশ্ন আপনি অনিশ্চয়তার ধারনা পেলেন কোত্থেকে?
---ধারনা পেলাম কোত্থেকে তা বললে তুই-ই তো সব শিখে ফেলবি হারামজাদা।ফাইজলামির আর জায়গা পাস না?
---কী যে বলেন স্যার!আপনার সাথে ফাইজলামি করব আমি!ফাইজলামির জায়গার এতই কি অভাব পড়ছে?সায়েম সাহেব একটু এগিয়ে গিয়ে বললেন--দেন স্যার আপনার একটু চরনধূলো মাথায় দিব।
হাইজেনবার্গ লাফ দিয়ে তিনহাত পিছনে সরে গেলেন এবং চেচিয়ে বললেন--'আমাকে বোকা পেয়েছিস?তোকে চরনধূলো দেই আর তুই আমার চরনধূলো নিয়ে কাল থেকে ব্যাবসা শুরু করবি।বাঙালীকে আমি হারে হারে চিনি।
---ছি ছি! এ কি বলেন স্যার!........আর স্যার আপনি আমাকে তুই তুই করে বলছেন।এটা কি ঠিক হচ্ছে? হাজার হোক আমি আপনার ভক্ত মানুষ।
---ও হ্যা....।ঠিক আছে।আচ্ছা টাইম ও স্পেস সম্পর্কে আপনার ধারনা কি?
---সায়েম সাহেব বিগলিত ভঙ্গিতে বললেন--স্যার আমার ধারনা অতি সামান্য।বুঝতেই পারছেন আমি নগন্য মানুষ।আপনি যদি একটু হেল্প করতেন...................................................
---হেলপ! হ্যা তা তো অবশ্যই করতে হবে।এখন যান একটা পান নিয়ে আসেন।মিষ্টি পান।আমি আবার কড়া জর্দা খেতে পারি না।
--সায়েম সাহেব বললেন,একটু অপেক্ষা করেন স্যার।আমি যাচ্ছি আর আসছি।
২
হাইজেনবার্গ চেয়ারে বসে পান চিবুচ্ছেন।তার দু চোখ বন্ধ।চোখ বন্ধ করে তিনি পান খেয়ে যাচ্ছেন।মনে হচ্ছে পান খাওয়ার চেয়ে আনন্দের কিছু পৃথিবীতে আর নেই।মাঝে মাঝে মেঝেতে পানের পিক ফেলছেন।
----স্যার কি ঘুমিয়ে পড়েছেন?সায়েম সাহেবের প্রশ্ন।
---না।
----স্যার একটা কোশ্চেন ছিল।
----কোশ্চেন! করেন।
---কয়েকদিন আগে আইনস্টাইন স্যার স্রোডিনজারের বিড়ালটা সম্পর্কে কি যেন লেকচার দিয়ে গেলেন কিছুই বুঝতে পারিনি।আপনি যদি একটু বুঝিয়ে দিতেন...............................................................
---স্রোডিনজার!!! ওই বদমাসটার কথা বন্ধ।পান খেতে খেতে মনে হল হাইজেনবার্গ সাহেব সামান্য রেগে গেলেন।
----কেন স্যার? উদ্বিগ্নমুখে প্রশ্নটা করলেন সায়েম সাহেব।
----জানই তো মহান নিউটন কুকুর পুষতেন।তাই দেখে ওই বদ স্রোডিনজার বিড়াল পোষা শুরু করল।এই বিড়াল দিয়েই শেষপর্যন্ত আমাদের কোয়ান্টাম ফিজিক্সে একটা ঝামেলা বাধাইয়া গেল।
---সায়েম সাহেব একটু ঝুকে এসে বললেন,তাহলে কি স্যার আপনি মনে করেন বিড়ালটার মত আমাদের দ্বৈতজীবন আছে?
--হাইজেনবার্গ গম্ভীর
হয়ে বললেন,আমি শুধু জানি ''ডেল এক্স ইনটু ডেল পি ইকুয়েলটু এইচ বাই ফোর পাই''।
---এটা কি স্যার?
---অনিশ্চয়তা নীতির সমীকরন।
---স্যার এটাই কি আপনার উত্তর?
---ইয়েস।
--তাহলে স্যার আপনি এখন আসেন।হাইজেনবার্গের উপর বিরক্তিতে ভ্রু কুচকে গেল সায়েম সাহেবের।
---হাইজেনবার্গ আরও গম্ভীরভাবে বললেন,হুম।কিন্তু আগে আমার পা টা একটু টিপে দেন।অনেকদিন কোথাও যাই না।পরকালে শুয়ে থাকতে থাকতে ব্যথা হয়ে গেছে।
---সায়েম সাহেবের রাগ হঠাৎ বেড়ে গেল।তিনি চিৎকার করে বললেন,ভাগ শালা হাইজেনবার্গ এখান থেকে।
--শালা! তুমি আমাকে শালা বললে! শালার ইংরেজি যেন কি?
---চুপ হারামজাদা।থাবরাইয়া দাত ফেলে দিব।তখন গরুর মত শুধু জাবর কাটবি।যা ভাগ।
---হাইজেনবার্গ কপালে ভাজের সংখ্যা বৃদ্ধি করে বললেন,তুমি কি আমাকে অপমান করার চেষ্টা করছ?
---সায়েম সাহেবের রাগ এখন সপ্তমে চড়ল।তিনি বললেন,অপমান! তোরে যে এখনও থাবড়া দেই নাই এটা তোর বাপের ভাগ্য।শুধু বাপ না বাপ -দাদা-চৌদ্ধ পুরুষের ভাগ্য। দূর হ আমার সামনে থেকে
------সায়েম সাহেব এতই রেগে গিয়েছিলেন যে রাগের চোটে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল।মেঝের দিকে তাকিয়ে দেখলেন পানের পিকে লাল হয়ে আছে মেঝে।ঠিক এই সময়েই ডাক্তার ঘরে ঢুকলেন।সাথে একজন নার্স।ডাক্তার সামান্য হেসে প্রশ্ন করলেন,আজ কি স্বপ্ন দেখলেন সায়েম সাহেব?
সায়েম সাহেব কোন জবাব দিলেন না।তাকে নিয়ে যে ডাক্তার সূক্ষ রসিকতা করছে তা তিনি বুঝতে পারলেন।এক বিরাট সমস্যায় পড়ে তার পরবিবাররে লোকজন তাকে এই মানসিক ক্লিনিকে ভর্তি করেছে।সমস্যাটা স্বপ্ন নিয়ে।সায়েম সাহবেরে সাথে প্রতিরাতে দেখা হয় বড় বড় পদার্থবিজ্ঞানীদের।তারা তার সাথে অনেক জটিল বিষয় আলোচনা করে যান।যেমন সেদিন আইনস্টাইন এসে বলে গেলে,''ই ইকুয়েলটু এম সি স্কয়ার'' একটা ভূল সূত্র। এই ভূল সূত্র দেয়ার জন্য পরকালে গিয়েও তার মনে কোন শান্তি নেই। তাই তিনি সায়েম সাহেবকে সমাধান করে নতুন একটি সূত্র বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।কিন্তু সায়েম সাহেব জীবনে কোনদিন ফিজিক্স পড়েন নি। টুকিটাকি যা জানেন সব পত্রিকা পড়ে।তাই কিছুই তিনি মনে রাখতে পারেন না।সারাদিন বসে বসে মনে করার চেষ্টা করেন।হয়ত কোনও একদিন তার মনে পড়ে যেতে পারে সেই অবিশ্বাস্য সূত্র।যেটা নিয়ে তোলপাড় শুরু হবে সারাবিশ্বে।সেই স্বপ্নে বিভোর সায়েম সাহেব। তার বিশ্বাস একদিন তিনি মনে করতে পারবেন স্বপ্নবার্তা।