দরবার জমে উঠেছে।প্রধান আসনে বসে আছেন মাননীয় পশুরাজ সিংহ।কাঠবিড়ালী থেকে শুরু করে কচ্ছপ পর্যন্ত সবাই চলে এসেছেন।শুধু বাকী রয়ে গেছেন হাতিমশাই।সভা শুরু হওয়য়ার কথা ছিল আট টায়। এখন প্রায় সাড়ে আট টা বাজে।হাতিমশাইয়ের কোন খবর নেই।একটু পর দেখা গেল হেলেদুলে হাতিমশাই আসছেন।তার হাঠার ভঙ্গি দেখেই সিঙ্ঘরাজার মাথা গরম হয়ে গেল। কিন্তু মুরুব্বী মানুষ তাই কিছু বললেন না।
হাতিমশাই একা আসেন নি।তার পিঠে করে দুটা কলাগাছ ও সাথে নিয়ে এসেছেন।আর একটা শুড় দিয়ে ধরে চিবুতে চিবুতে আসছেন।হাতিমশাই আসতেই খরগোশ বলে উঠল,হাতিসাহেবের সময়জ্ঞান আজকাল কমে গেল নাকি? এত দেরী কেন মশাই?
হাতিমশাই বড় এক কামড়ে পুরো কলাগাছটা ভিতরে ঢুকিয়ে বল্লেন,কি আর বলব ভাই,পেঠটা ক্ষুধায় ছো ছো করে।না খেয়ে এক কদমও হাঠতে পারি না।তাই একটু দেরী।
বানর সাহেব ও সভায় এসেছিল।কিছুদিন আগে মাত্র তিনি জেল থেকে বেরিয়েছেন।হনুমান দের সাথে বাদরামি করার জন্য তার দিনের জেল হয়েছিল।কিন্তু কয়লা ধুলে কি আর ময়লা যায়?বানর সাহেব তাই বাদরামিটা ছাড়তে পারেন না।
হাতিসাহেবের কথা শুনে বানর সাহেব বল্লেন,মশাই যে হারে কলাগাছ শেষ করছেন তাতে মনে হচ্ছে আমরা আগামীতে আর কলা পাব না।আমি ভেবে পাইনা , আপনার এইটা পেঠ নাকি জাহাজ!!!
এরকম সোজাসোজি অপমান গন্ডারসাহেব সহ্য করতে পারেন কারণ তার চামড়া পুরু কিন্তু হাতি সাহেব সহ্য করতে পারলেন না।সভায় সবার সামনে তার আত্নসম্মানে আঘাত লাগল।তবু তিনি দৌড়ে মারতে গেলেন না।রাগান্বিত স্বরে বললেন, হারামজাদা বান্দর, আমি কলাগাছ খাইলে তোর কি? বন কি তর? শালা ইন্দুরের বাচ্চা।
ইদুরমশাই কাল কোট পরে এসেছিলেন সভায়।বানরকে তার বাচ্চা বলায় তার মান সম্মান মাটির সাথে মিশে গেল তার মন হল।তিনি তিক্ষ্ন কন্ঠে চিঁ চি স্বরে বললেন, মুখ সাম্লে কথা বলবেন হাতিসাহেব।আপনাকে আআমরা ভাল মানুশ বলেই জানি।
আর ওদিকে বানর সাহেব ভেংচি কেটে বলতে লাগলেন, আজ যখন আমরা এসেছি তখন এটার ও একটা বিহিত করতে হবে।কতদিন হল কলার মুখ তো দূরের কথা লেজ টাও চোখে দেখি না।
পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে যাচ্ছে দেখে পশুরাজ সিঙ্ঘমশাইয়ের ইশারায় সেনাপতি হ্রস্বধ্বনি সবাইকে শান্ত হতে বল্লেন।সেনাপতি ঘোড়াসাহেবের উপাধী হ্রস্বধ্বনি ।
সবাই শান্ত হলে সিঙ্ঘসাহেব আস্তে আস্তে বলতে লাগলেন, আপনারা জানেন আজ আমরা এখানে কেন সমবেত হয়েছি।কিন্তু সম্মানিত সুধী, আপ্নারা দেখেন আমাদের বিরোধি দল বনের জাতীয় স্বার্থেও মিটিং এ আসে নাই।আমি মাননিয় কচ্ছপ মশাইকে অনুরোধ করছি বিরোধীদলীয় প্রধান বাঘসাহেবকে নিয়ে আসার জন্য।যেহেতু এটা আমদের জাতীয় স্বার্থ তাই সবার একসাথে থাকা বাঞ্চনীয়।
সবাই সমস্বরে সিঙ্ঘরাজের কথায় সায় দিলেন।কচ্ছপ মশাই বাঘসাহেবকে আনতে গেলেন।বাঘসাহেব তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে গাছতলায় আলোচনায় ব্যস্ত।কচ্ছপ মশাই গিয়ে বাঘসাহেবকে পশুরাজের আমন্ত্রনের কথা জানালেন। বাঘসাহেব গম্ভীর হয়ে বললেন, যেতে পারি আমরা, তবে সাম্নের সাড়িতে আমাদের বসাতে হবে।
কচ্ছপ মশাই বললেন, এটা কি করে হয়! সিঙ্ঘ এখন পশুরাজ।সে তার দলের নেতাকর্মিদের সামনে বসাবে এটাই স্বাভাবিক।
বাঘমশাই খানিকটা হেসে বললেন, আমি যখন রাজা ছিলাম তখন বন কত শান্তিতে ছিল।কিন্তু এখন চলছে অরাজকতা।তাই এটা আমাদের একরকমের প্রতিবাদ বলতে পারতেন।তার উপর আমরা ওদের চেয়ে ওদিক সম্মানী।
কচ্ছপ মশাই ফিরে এসে পশুরাজকে বিষয়টা জানালেন।পশুরাজ তো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন।হুঙ্কার দিলেন বন কাপিয়ে।এমন দাবি কিছুতেই তিনি মানবেন না।এমন সময় ধূরন্ধর সজারুসাহেব পশুরাজের কানে কানে এসে বলল, মহারাজ ওদের কথা শুনে বিচারটা আগে করে ফেলুন।তারপর দেখা যাবে কত ধানে কত চাল।
সজারুসাহেবের কথা টা পশুরাজের মনে ধরল।তিনি বাঘসাহেবের দল্কে সামনে বসাতে রাজি হলেন।বাঘসাহেব আসলেন দলবল নিয়ে।
সভা আরম্ভ হল।
পশুরাজের অনুমতি নিয়ে জ্ঞানি কচ্ছপ সাহেব প্রথমে কথা বলা আরম্ভ করলেন, আপ্নারা সবাই আজ এখানে এসেছেন।এখানে আমরা মিলিত হয়েছি শেয়াল পন্ডিতের বিচার করার জন্য।শেয়াল পন্ডিত বনদ্রোহী।সে পাশের বনের সাথে চক্রান্ত করে আমাদের স্বাধীনতা ওদের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল তেত্রিশ বছর আগে।আপনারা সবই জানেন।
কচ্ছপ সাহেব স্লোগানের সুরে বললেন, দেশদ্রোহী শেয়াল পন্ডিতের বিচার চাই,বিচার চাই।
সবাই তার সাথে স্লোগানে যোগ দিল বিচার চাই,বিচার চাই।
শেয়াল পন্ডিত এককোনে বসে বই পড়ছিল।সে এখন মুখ তুলে চাইল।কচ্ছপের কথা সে মন দিয়ে শুনেছে।হঠাত তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল।সে বাঘসাহেবের একটু কাছে গিয়ে বলল, মামাসাহেব কারচুপি করে হারামজাদা সিঙ্ঘ রাজা হয়েছে।এখন মিথ্যা মামলায় আমাকে মারতে চাইছে যাতে আমি আপনাকে বুদ্ধি দিতে না পারি।দেখলেন না গতবার ইলেকশনে সময় বন্দি করে রাখল।শালা বুঝে গেছে আমরা মামা ভাগ্নে এক হলে ঠেকানো যাবে না।
বাঘসাহেব চিন্তিত মুখে বললেন, তাই তো।
শেয়াল পন্ডিত বল্ল।কথায় আছে না। মামা-ভাগ্নে এক হয় হে.........তদের আবাব্র ঠেকায় কে। মামা আপনি আন্দোলন শুরু করেন। ব্যটাকে গদি থেকে নামাতে হবে।আমি আছি আপনার সাথে।মাম বলেন, গদি ছাড়বি কিনা বল...নইলে লাথির ছোটে হয়ে যাবি ফুটবল।
বাঘসাহেব হালুম করে গর্জন দিয়ে উঠলেন।চিতকার করে বললেন, বন্ধ কর এ বিচার।এ বিচার হবে না। আগে দ্রব্যমুল্যের দাম কমাতে হবে।
বাঘসাহেব হুঙ্কার গর্জন করতে লাগলেন।আর ওদিকে সীঙ্ঘরাজ ও রেগে আগুন।তিনি ও পালটা বিবৃতি দিতে লাগলেন।মাঝখানে দাড়ীয়ে কচ্ছপ মশাই বলছেন ,আপ্নারা বন্ধ হোন। দেখতে দেখতে দুই পক্ষই লাঠিসোটা নিয়ে লড়াইয়ে লেগে গেল।বন্র পশুপাখিরা নিরাপদ দুরত্বে থেকে তা উপভোগ করতে লাগল।আর ওদিকে দেখা গেল শেয়াল পন্ডিত ধীরে ধীরে তার বারীর দিকে হেঠে চলেছে।গিয়েই সে একটা লম্বা ঘুম দেবে।