জীবনের সুন্দরতম সময় কৈশোর। তুমি তোমার জীবনের এই সুন্দর সময়টি পার হচ্ছো। নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করছ। নিজের বুদ্ধিতে, নিজস্ব বিবেচনায় পৃথিবীকে দেখছ, তুমি বুদ্ধিমান। বুদ্ধিমান মানুষেরা করে কী- কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ যেমন বুঝতে পারে, তেমনই লুকোছাপা কম করে, সরাসরি কথা বলে।
এসো, আজ আমরা একটি জরুরি বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলি। বিষয়টি হলো মাদক বা নেশাদ্রব্য। হ্যাঁ, তোমার মনে হতে পারে, এটা নিয়ে আমি ভাবব কেন- আমি তো কোনো মাদকদ্রব্য নেই না! আসলে এটা এখন একটা বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে আমাদের সমাজে। তোমরা যারা এদেশের ভবিষ্যত, তোমরা যারা সমাজ, পরিবার, মা-বাবার স্বপ্ন, আগামীতে তোমরাই কেউ হবে বড় গায়ক, নায়ক, চিত্রকর, কৌশলী, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাষ্ট্রনায়ক- সেই তোমরা অনেক মূল্যবান। এক দুষ্টচক্র তোমাদের নষ্ট করতে ফাঁদ পেতে আছে তোমাদের চারপাশেই। তোমাদের এই আলোময়-আনন্দময় জীবনকে তারা অন্ধকারে টেনে নিতে চায়। কারণ মাদক হচ্ছে ওদের ব্যবসা। ওরা তোমাদের ছল করে বল করে কৌশল করে মাদকদ্রব্য নিতে আগ্রহী করে তুলতে চায়। ওরা চেষ্টা চালাবেই, চালাক। আমরাও কম চালাক নাকি! ওদের ফাঁদে ধরা দেব?- মোটেই না।
তোমাদের ধরবে বলে ওরা মরণফাঁদ পেতেছে
বিশ্বজুড়েই মাদক একটি অন্যতম ভয়াবহ সমস্যা। আমাদের দেশের অবস্থাও আতঙ্কজনক। তোমাদের মতো কোমলপ্রাণের কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরাই মাদকের প্রধান শিকার হচ্ছে। কারণ তোমাদের বয়সটাকে বলা হয় বয়ঃসন্ধিকাল। এ সময় মস্তিষ্কের বিশেষ একটি স্থানে আলোড়ন জাগে। কিছু রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ বেড়ে যায়। তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছ, এ কারণেই তোমরা দেখছ তোমাদের শরীরে-মনে নানা পরিবর্তন ঘটছে। নিজের ভেতরটা, বাইরের পৃথিবীটা কেমন বদলে যাচ্ছে। এ সময় ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ বেড়ে যায়, কিছু একটা করে দেখতে ইচ্ছে করে, কৌতূহল বেড়ে যায়। নিজেকে বড় মানুষ বলে মনে হয়।
এই কৌতক্সহলী মন, অজানাকে জানার নেশাকে কাজে লাগায় ওই মাদকমহল। তোমাদের বয়সী অনেকেই ‘দেখি না একটু কি হয়’ এই কৌতূহল থেকে মাদকের জালে আটকে পড়ে। আর বেরুতে পারে
না। মাদকে একবার আসক্ত হলে ফিরে আসা খুব কঠিন। অনেকেই অল্পবয়সে মৃত্যুর কোলেও ঢলে পড়ে। তাই এসো আমরা খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে জেনে নেই মাদকদ্রব্য কি, এসব নিলে কি হয় আর ওই দুষ্টচক্রের হাত থেকে আমরা বাঁচব কেমন করে। হয়তো কোনো দিন দরকারই হবে না, তবু বুদ্ধিমান মানুষ নিজেকে রক্ষার কিছু জিনিস শিখে রাখে না, আমাদের এ আলোচনাটা ধরো সে রকমই একটি বিষয়।
কাকে বলে মাদকদ্রব্য
মাদক হচ্ছে এমন দ্রব্য, যা আসক্তি তৈরি করে এবং শরীর ও মনের তি করে। ফলে মাদকের ওপর এক ধরনের নির্ভরতা তৈরি হয়ে যায়, যার জন্য বারবার নিতে হয় আর বারবার নেওয়ার ফলে শরীর ভেঙে যায়, সুন্দর মনটা নষ্ট হয়ে যায়। গাঁজা, মদ, হেরোইন, পেথেডিন, ফেন্সিডিল, অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট প্রভৃতি হচ্ছে মাদকদ্রব্য। সিগারেটকে মাদকদ্রব্য হিসেবে ধরা না হলেও, সিগারেটকে বলা হয় ‘মাদকের গেটওয়ে’। দেখা যায় প্রায় সব মাদকসেবীই মাদকদ্রব্য শুরু করে ধক্সমপান দিয়ে।
মাদক গ্রহণের পরিণতি ভয়াবহ
তুমি ভাবতেও পারবে না ওইসব মাদকদ্রব্য দু-তিনবার নিলেই আসক্তি তৈরি হয়ে যায়। তা হয়ে গেলে মন আর শরীর তোমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। তুমি বাধ্য হবে আবার নিতে, তারপর আবার নিতে। এর পরিণতি হয় ভয়াবহ। মাদকে আসক্ত হলে কি কি হয় শোনো তাহলে-
- মাদকাসক্ত হলে মস্তিষ্কের কোষে কোষে ক্ষতি ছড়িয়ে পড়ে। স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। তার মানে মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তুমি আর খেলাধুলা করতে পারবে না, লেখাপড়া করতে পারবে না।
- ভালো মানুষ হয়ে ওঠার গুণাবলী একদম পুড়িয়ে দেয় নেশাদ্রব্য। মায়া-মমতা, ভালোবাসা, নৈতিক শক্তি, ধর্মীয় বিশ্বাস শেষ হয়ে যাবে- তুমি বুঝতেও পারবে না! তোমার সামনে মা-বাবা কষ্ট পাবেন, বোন কাঁদবে, প্রিয়জন মরে যাবে- তোমার খারাপ লাগার বোধটাও থাকবে না! তুমি নিশ্চয়ই অমন অমানবিক রোবট হতে চাও না।
- স্মৃতিশক্তি কমে যাবে। পড়া বা অন্যকিছু মনে থাকবে না। পরীক্ষায় খারাপ করবে। জীবনটাই যাবে নষ্ট হয়ে। পরীক্ষায় যে ‘এইম ইন লাইফ’ লিখেছিলে সেটা আর সত্যি হবে না তোমার জীবনে।
- শরীরের বলও কমে যাবে। খেলতে তুমি শক্তি পাবে না। সুন্দর ছবি দেখতে, চমৎকার গল্পের বইটা পড়তে তোমার ভালো লাগবে না। সব আনন্দই চলে যাবে তোমার জীবন থেকে।
- আসক্তির ফলে চোখের মণি ছোট হয়ে যেতে পারে। তাতে দেখার মতা কমে যাবে।
- ফুসফুসে যক্ষ্মা হতে পারে, ক্যান্সার হতে পারে। ফুসফুসে প্রদাহ হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে।
- লিভারের সমস্যা- যেমন জন্ডিস, প্রদাহ, ক্যান্সারসহ নানা খারপ রোগ হতে পারে।
- হার্টের সমস্যা হয়। স্বাভাবিক ডিবডিব শব্দ বা হৃদস্পন্দন কমে যায়, কখনো অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। ফলে হার্টের কাজ করার ছন্দ ও শক্তি কমে আসে।
- রক্তকণিকার সমস্যা তৈরি হয়। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে যায়।
- পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা হয় বলে খাবারে অরুচি হয়, হজমে সমস্যা হয়, বুক জ্বালাপোড়া করে। পেটে ঘা পর্যন্ত হয়ে যায়। বমি বমি ভাব, পেটব্যথা ইত্যাদি থেকে সহজে ছাড় পাওয়া যায় না।
এসব দৈহিক ক্ষতির পাশাপাশি মনেরও বড় ধরনের তি হয়ে যায়। যেমন-
- মাদকাসক্ত হলে আবেগ নষ্ট হয়ে যায়।
- মেজাজ উগ্র হয়ে ওঠে।
- নেশা করলে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও অসলগ্ন ব্যবহার চলে আসে অজান্তেই। তাতে বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সকলের মধ্যে হতাশা নেমে আসে, পরিবারের সুখ হারিয়ে যায়। বাবা-মায়ের বুকের ব্যথা বেড়ে যাক, তুমি হয়ে ওঠ পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য বোঝাস্বরূপ- এটা নিশ্চয়ই তুমি চাও না। তোমার কাজ তো বরং পরিবারের সকলের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন করা, সবাইকে নিয়ে সুখে থাকা।
- একবার আসক্ত হয়ে পড়লে নেশাকারী মাদক না নিয়ে পারে না। তাকে ওসব কেনার টাকা জোগাড় করতে হয়। কিন্তু পরিবারের কেউ, চেনাজানা কেউ তো তাকে বিশ্বাস করে না। তখন সে টাকা জোগাড় করার জন্য প্রথমে ঘরে চুরি করে, পরে ছিনতাই করে বা সন্ত্রাসীর দলে ভিড়তে বাধ্য হয়। ভাবো, কী ভয়াবহ অবস্থা!
এভাবেই আমাদের সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে, নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে, অপরাধ বাড়ছে। আমাদের সোনার বাংলাটা ‘দুখিনী বর্ণমালা’ হয়ে যাচ্ছে। তাই সাবধান, কৌতূহলেও কখনো মাদকদ্রব্য চেখেও দেখবে না। একবারের জন্যও না।
মাদকের ফাঁদ থেকে নিজেকে রার উপায়আশঙ্কার বিষয়, এখন প্রায় সব জায়গাতেই মাদক পাওয়া যায়। মাদক ব্যবসায়ীরা তোমাকে ক্রেতা বানাতে চাইবেই। কারণ তোমাকে আসক্ত করতে পারলে তুমি তাদের স্থায়ী ক্রেতা, মানে শিকারে পরিণত হবে। তোমার কাছে মাদক বিক্রি করতে পারলে তাদের লাভ, কিন্তু তোমার জন্য এটা আসলে না ফেরার পথেই হাঁটা। তাই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাবধানে থাকবে। তারা নানা ছলে-কৌশলে তোমার কাছে আসতে পারে। তুমি বুদ্ধিমান, নিশ্চয়ই তাদের ফাঁদে পা দেবে না।
যারা ইতিমধ্যে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে, তারা তোমাকে দলে ভেড়াতে চাইবে। শুরুতে বিনে পয়সায়ই তোমাকে মাদক দেবে। তোমার মনে হতে পারে, খরচা যখন হচ্ছে না নিয়েই দেখি। আসলে এটা একটা বড় চাতুরি। কারণ ওই লোকটার আসল মতলব হলো, তোমাকে দলে ভিড়িয়ে আসক্ত করে ফেলে পরে তোমার টাকায়ই সে মাদক নেবে। প্রথমে বিনে পয়সায় দেওয়াটা হলো তার ইনভেস্টমেন্ট। তুমি তো বোকা নও, তুমি কেন আরেকজনের দাবার ঘুঁটিতে পরিণত হবে!
অনেক সময় মাদকাসক্ত বন্ধুরা তোমাকে মাদক নিতে বলতে পারে। তুমি নিতে না চাইলে তোমাকে ‘আনস্মার্ট-ক্ষ্যাত’ বলে টিজ করতে পারে। বলুক, কিছু যায়-আসে না। কারণ তুমি জানো, মাদক নেওয়া কোনো স্মার্টনেস নয়। বরং যারা মাদক নেয় তাদের কেউ পছন্দ করে না, বিশ্বাস করে না। তোমার মতো যারা মাদক নেয় না, তারাই সবার প্রিয়।
তোমাদের এই বয়সে কৌতূহলটা বেশিই থাকে এবং এটা দুর্ভাগ্যজনক যে তোমাদের বয়সী অধিকাংশ কিশোর এই কৌতূহল থেকে মাদক নেয়। মনে করে একবার-দুবার নিলে কী হবে? আমি তো আর আসক্ত হওয়ার জন্য নিচ্ছি না। বড় ভুলটা হয় এখানেই, মনে রেখো- দু-একবার নিলেই মাদকের উপর নির্ভরতা তৈরি হয়ে যায়। আর ফেরা যায় না। এই কথাটা অনেকেই জানে না। আজ তুমি জানলে।
জীবনে নানা হতাশা আসে, নানা সমস্যা আসে। নেশার মাদকতায় সাময়িকভাবে হয়তো দুঃখ ভোলা যাচ্ছে বলে মনে হয়। কিন্তু মনে রেখো মাদক কোনো সমস্যার সমাধান নয়, হতাশা মুক্তির উপায়ও নয়।
জানো, মাদক একটি বিভ্রান্ত্রিও তৈরি করে। যেমন- প্রথম প্রথম মাদক নিলে অস্বাভাবিক ভালো লাগার অনুভূতি জাগতে পারে। মনে হয়, কল্পনাশক্তি অনেক বেড়ে গেছে। আসলে তা নয়, এটা বরং মরণের দিকেই টেনে নেওয়া।
যারা মাদক নিতে বলে তাদের সঙ্গে মেলামেশা বাদ দিয়ে দাও। মনে রেখো এই গুরুত্বপূর্ণ কথাটি- যে নেশা করতে বলে সে কখনো বন্ধু নয়।
মাদককে ঘৃণা কর মাদকাসক্তকে নয়তুমি একটি মহাভয়ের বিষয় কি ল্ক্ষ্য করেছ? বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। তুমি তোমার চারপাশে ভাই-বন্ধু-কাজিন-প্রতিবেশীদের মধ্যে খেয়াল করলেই এটা দেখতে পাবে। কী ভয়াবহ অবস্থা, তাই না! ধরো, দুঃখজনকভাবে তোমার পরিচিত কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ল। তাকে ঘৃণা না করে, এড়িয়ে না চলে বরং তাকে ভালো হতে সবাই মিলে সহযোগিতা কর। মনে রেখো, মাদকাসক্তি একটি অসুখ।
মাদকমুক্ত হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় যেটা দরকার সেটা হলো, ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছাশক্তি বাড়ানো। অর্থাৎ নিজেকেই রাজি করাতে হবে, ভেতর থেকেই তাগিদটা জাগাতে হবে। জোর করে কাউকে এ পথ থেকে ফেরানো যায় না। তাই পরিবারের সবাই মিলে মাদকাসক্তকে মানসিক শক্তি জোগাতে হবে। হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কমপক্ষে ছয় মাস জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। চিকিৎসা, কাউন্সিলিং সেশনের মাধ্যমে তাকে সুস্থতার পথে আনার চেষ্টা করতে হবে। এরপর মনোচিকিৎসকগণের মাধ্যমে ১৪ থেকে ৩০ দিনের বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া চালাতে হবে। তারপর ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত তাদের হাতের কাছে কোনোভাবেই যেন মাদক না পৌঁছুতে পারে সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। রোগীকে কোনো একটি কাজে পুনর্বাসিত করতে হবে। আর লক্ষ্য রাখতে হবে, সে যেন ধূমপানও না করে। কারণ একটি গবেষণা রিপোর্ট থেকে দেখা গেছে, ধূমপায়ীরা সহজে আসক্তি ছাড়তে পারে না। ধূমপান করলে আবার আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের উপরে বেড়ে যায়।
আসুন সবাই মিলে কথা বলি, মাদককে না বলিজাতিসংঘের মাননীয় মহাসচিব কফি আনান বিশ্ববাসীর কাঁধে একটি দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। তিনি মাদকের ক্ষতি সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই মাদক নিয়ে কোনো লুকোছাপা না করে বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, বন্ধু সবারই খোলামেলা কথা বলা উচিত। কারো এ জাতীয় কোনো সমস্যা হলে তা গোপন না করে বা নিরব না থেকে কাছের মানুষের সঙ্গে আলাপ করা ভালো। এতে সমস্যা অনেক কমে যায়, নিশ্চয়ই কাটিয়েও ওঠা যায়।
তাই এসো, এ নিয়ে কথা বলি, এ সম্পর্কে নিজেরা সচেতন হই, পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের সবাইকে সচেতন করে তুলি। এসো, আমরা সবাই এই মরণনেশার বিরুদ্ধে লড়াই করি, মাদকবিরোধী সৈনিক হই আর মাদককে না বলি।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শঃ ডা. মোহিত কামাল
গ্রন্থনাঃ গিয়াস আহমেদ; সাংবাদিক, প্রথম আলো