আগুনে পোড়া
আগুনের উৎস থেকে অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিকে সরিয়ে নিতে হবে। অগ্নিদগ্ধ পোশাক অতি দ্রুত খুলে ফেলে ভেজা তোয়ালে বা চাদর শরীরে জড়িয়ে দিতে হবে। পেট্রল বা তেলজাতীয় পদার্থে আগুন ধরলে বালু বা মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি দিলে আগুন নিভে যাবে। কম্বল জড়িয়ে আগুন নেভাতে যাওয়া ঠিক নয়, কারণ কম্বলে আগুনের তাপ দেহের মধ্যে আটকে যায় এবং তাতে ত্বক বেশি পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আগুনে অল্প পুড়ে গেলে চামড়ার যে ক্ষতি ও ব্যথা হয় তা কমানোর জন্য পুড়ে যাওয়া জায়গা ঠান্ডা পানিতে চুবিয়ে রাখা সবচেয়ে ভাল। এর ফলে ত্বক ঠান্ডা হবে এবং ত্বকের অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। এ ক্ষেত্রে শুধু ব্যথার ওষুধ খেলেই চলে, আলাদা কোনো চিকিৎসার দরকার হয় না।
ত্বকে ফোস্কা পড়া ভালো লক্ষণ। ফোস্কা পড়ার অর্থ ত্বকের কোষ জীবিত আছে। এ জাতীয় ত্বক দ্রুত সেরে ওঠে। পুড়ে যাওয়ার ফলে যদি ফোস্কা হয় তা নিজে থেকে কখনোই গলানো উচিত নয়। কোনো কারণে ফেটে গেলে ফোটানো পানি ঠান্ডা করে তাতে অল্প পরিমাণ লবণ/পটাশ/পভিসেপ (পভিসন আয়োডিন)/নরমাল স্যালাইন মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে পোড়া জায়গা ধুয়ে ফেলতে হবে। পরিষ্কার কাপড়ে অল্প ভ্যাসলিন লাগিয়ে ক্ষতস্থান শুকনো করে তাতে লাগিয়ে রাখতে হবে। যদি ভ্যাসলিন না থাকে তবে জায়গাটি শুকনো ও খোলা রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ব্যান্ডেজ করা যাবে না। কোনো রকম তেল/চর্বি/মাখন বা ডিম দিয়ে প্রলেপ দেওয়া যাবে না। তাতে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পোড়া জায়গা পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখা জরুরি। কোনো রকম ধুলা, বালি, মশা, মাছি যেন পোড়া জায়গায় না লাগে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। যদি পুঁজ, দুর্গন্ধ হয় বা ফুলে যায় কিংবা ক্ষত থেকে রস পড়ে তবে সংক্রমণ বা ইনফেকশন হয়েছে বুঝতে হবে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে।
চামড়া একেবারে পুড়ে যদি মাংস দেখা যায় তবে রোগীকে সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে নিতে হবে। তার আগে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে রোগীকে ঢেকে দিতে হবে, যাতে ধুলা, বালি, মশা, মাছি না পড়ে। রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার আগ পর্যন্ত বারবার অল্প করে লবণ মেশানো পানি খেতে দিতে হবে। সম্ভব হলে স্যালাইন বা লেবুর শরবত দিতে পারলে আরো ভালো। প্রয়োজনীয় সব খাদ্য পোড়া রোগীকে দিতে হবে, বিশেষত মাংস, মাছ, দুধ, ডিম অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রোটিনজাতীয় খাদ্য।
হাতের আঙুলের ফাঁকে, সন্ধিস্থলে বা বগলে পুড়ে গেলে পরিষ্কার কাপড়ে বা গজে ভ্যাসলিন লাগিয়ে প্রলেপ দিতে হবে। প্রলেপ দেওয়ার আগে ক্ষতস্থান পূর্বের নিয়মেই পরিষ্কার করতে হবে। হাতপায়ের আঙুল বারবার নাড়াতে হবে। এতে করে ব্যথা হলেও পেশিতে টান পড়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
রোগী বেশি পুড়ে গেলে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স আনাই সবচেয়ে ভালো।
এসিডে পোড়া